Discuss about the inter-regional trade of Early Medieval India.

Niharika's Activities
0

Q. Discuss about the inter-regional trade of Early Medieval India. 

আদি মধ্যযুগীয় ভারত (আনুমানিক ৭৫০-১২০০ খ্রিঃ) প্রসঙ্গে ঐতিহাসিকদের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত বিতর্ক হলো এই যুগের বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রকৃতি। ঐতিহাসিক আর. এস. শর্মা (R.S. Sharma) এবং তাঁর অনুগামীরা এই যুগকে "বাণিজ্যিক অবক্ষয়" (Urban Decay) এবং এক স্বয়ংসম্পূর্ণ, আবদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতির যুগ বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, গুপ্ত-পরবর্তী যুগে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে বহির্বাণিজ্যের পতন, শহরে জীবনের অবক্ষয় এবং সামন্ততন্ত্রের উত্থান আন্তঃ-আঞ্চলিক বাণিজ্যকেও স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

তবে, আধুনিক গবেষণা (বিশেষত বি. ডি. চট্টোপাধ্যায়, রণবীর চক্রবর্তী প্রমুখের) এই "অবক্ষয়ের" তত্ত্বকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে না। এই গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, যদিও বাণিজ্যের ধরন বদলেছিল, কিন্তু বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। বস্তুতপক্ষে, এই যুগে স্থানীয় বাজার এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে এক নতুন ধরনের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।

এই যুগের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি। নতুন নতুন অঞ্চলে কৃষির সম্প্রসারণ ঘটলে গ্রামীণ উদ্বৃত্ত তৈরি হতে শুরু করে। এই উদ্বৃত্ত বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজার বা 'হাট্টা' গড়ে ওঠে। এগুলিই ধীরে ধীরে গ্রামীণ এলাকাগুলিকে বৃহত্তর বাণিজ্য পথের সাথে যুক্ত করে। রাষ্ট্রীয় আধিকারিকরা এই বাজারগুলি থেকে কর আদায় করতেন, এই কেন্দ্রগুলিকে 'মান্ডপিকা' বা আধুনিক 'মান্ডি'-র সমতুল্য বলা যায়।

এই যুগে বাণিজ্যের অভিমুখ বদলে যায়। উত্তর ভারতের প্রাচীন স্থলপথগুলির গুরুত্ব কিছুটা কমলেও, উপকূলীয় বাণিজ্যপথ অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। গুজরাট, মালাবার উপকূল, করমণ্ডল উপকূল এবং বাংলার বন্দরগুলি একে অপরের সাথে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলির সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। নদীপথগুলিও (বিশেষত গঙ্গা, নর্মদা, গোদাবরী) পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আদি মধ্যযুগের বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো শক্তিশালী বণিক গিল্ড বা সংগঠনগুলির উত্থান। প্রাচীন 'শ্রেণী'-র তুলনায় এগুলি ছিল আরও বেশি সংগঠিত।

 

দক্ষিণ ভারতে (বিশেষত কর্ণাটক) উদ্ভূত এই বণিক সংগঠনটি ছিল প্রায় একটি "রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র"। এদের নিজস্ব সেনাবাহিনী, জাহাজ এবং পতাকা ছিল। এরা কেবল দক্ষিণ ভারত নয়, বাংলা, গুজরাট এমনকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বাণিজ্য করতো।

এই যুগে মন্দিরগুলি কেবল ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল না, এগুলি ছিল একেকটি বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মন্দিরগুলি প্রচুর ভূসম্পত্তির মালিক ছিল এবং তাদের দৈনন্দিন পূজার জন্য প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি, রেশম, কর্পূর, মশলা, ঘি ইত্যাদির প্রয়োজন হতো। এই প্রয়োজন মেটানোর জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ বণিকদের উৎসাহিত করত এবং বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা দিত। অনেক মন্দির ব্যাঙ্ক হিসেবেও কাজ করত, অর্থাৎ বণিকদের অর্থ গচ্ছিত রাখা বা ঋণ দেওয়ার কাজ করত।

বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ পণ্যগুলি অন্য অঞ্চলে পাঠানো হতো।

§  দক্ষিণ ভারত: গোলমরিচ এবং অন্যান্য মশলা, মূল্যবান পাথর (মণি), মুক্তা।

§  পশ্চিম ভারত (গুজরাট/রাজস্থান): ঘোড়া (আরব দেশ থেকে আমদানি করে তা সারা ভারতে পাঠানো হতো, যা রাজাদের জন্য অত্যাবশ্যক ছিল), তুলা।

§  পূর্ব ভারত (বাংলা): সূক্ষ্ম সুতিবস্ত্র, চাল।

§  উত্তর ভারত: হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামগ্রী।

§  সর্বজনীন: লবণ এবং ধাতুর বাণিজ্য সর্বত্রই চালু ছিল।

আর. এস. শর্মা এই যুগে মুদ্রার অভাবকে বাণিজ্যের পতনের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন। এটা ঠিক যে, গুপ্তযুগের মতো উচ্চমানের স্বর্ণমুদ্রা কম দেখা যায়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অর্থের ব্যবহার ছিল না। দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাবেচার জন্য কড়ির ব্যাপক ব্যবহার হতো।পাল, প্রতিহার, চোল, রাষ্ট্রকূটপ্রত্যেকেই নিজেদের প্রয়োজনমতো রৌপ্য, তাম্র বা মিশ্র ধাতুর মুদ্রা প্রচলন করেছিল। বড়সড় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বণিকরা ধাতব মুদ্রার বদলে এক ধরনের 'ক্রেডিট নোট' বা 'হুন্ডি' ব্যবহার করত, যা ছিল একটি উন্নত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার লক্ষণ।

 

জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার

তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি

6295916282; 7076398606

 

জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার

তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি

অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
ads
ads
ads
bookstore