7.প্রথাগত এবং প্রথাবহির্ভূত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন
[Evaluation
through Formal and Informal Method]
মানুষের জীবনে মূল্যায়ন শব্দটি নতুন
নয়। গতানুগতিক ও সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় মূল্যায়নের উদ্দেশ্য ব্যাপক পরীক্ষার দ্বারা
সাধারণত পরীক্ষার্থীর বুদ্ধিগত ও তত্ত্বমূলক সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা হয়। কিন্তু
মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের পরিমাপক। সেইজন্য শিক্ষা বিজ্ঞানের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী
ছাড়াও শিক্ষক, প্রশাসক, অভিভাবক সকলেরই মূল্যায়ন সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
Ø
মূল্যায়নের সংজ্ঞা (Definition of Evaluation):
শিশুর ক্রমবর্ধমান ব্যক্তিত্ব বিকাশের
ধারাবাহিক পরিমাপ ব্যবস্থাই হল মূল্যায়ন। অর্থাৎ শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে
শিক্ষার্থী সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে কি না তা নির্ধারণ করা হয় মূল্যায়নের মাধ্যমে। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী মূল্যায়ন সম্পর্কে
বিভিন্ন মতবাদ পোষণ করেন।
Ø মনোবিদ wesley বলেন যে,“মূল্যায়ন হচ্ছে
সবরকম প্রচেষ্টা ও উপায় যার সাহায্যে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যগুলি পরিমাণগত ও গুণগতভাবে
কতখানি বাস্তবায়িত হয়েছে তা পরিমাপ করে।”
Ø মনোবিদ A.J.
Nicto (এ. জে. নিক্টো) এবং Dereck Rowntsee (ডেরেক রোঁৎসি) মূল্যায়নের সংজ্ঞায় বলেছেন—
"শিক্ষায় মূল্যায়ন হল এমন একটি অন্তহীন প্রক্রিয়া যার
মাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন তথ্যের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ও সাফল্যের
পূর্ণাঙ্গ বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। "
Ø কোঠারী কমিশন ( 1964-66)-এর মতে
“শিক্ষার উদ্দেশ্যমুখী সামঞ্জস্যপূর্ণ
শিখন ও শিক্ষণ প্রচেষ্টার সার্বিক ফলশ্রুতির মান বিচার করণের অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াই
হল মূল্যায়ন।”
Evaluation
includes not only scholastic achievement,
but also non-scholastic areas like etudes,
interests, ideas, ways of thinking, health, work habit,
personal and social deceptiveness. অর্থাৎ শিক্ষার বহুমুখী উদ্দেশ্যকে
কাজে লাগিয়ে সর্বজন স্বীকৃত মূল্যায়নের যে সংজ্ঞাটি নির্ধারিত করা হয়েছে সেটি হল—মূল্যায়ন
শুধুমাত্র পুস্তক নির্ভর পড়াশুনার অগ্রগতিকেই বিবেচনা করে না সেই সঙ্গে বিবেচনা করে
পুস্তক বর্হিভূত খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য কাজকর্ম যেগুলির বিভিন্ন বাঞ্ছিত
গুণাবলী যেমন—দৃষ্টিভঙ্গি, আগ্রহ, ধারণা, চিন্তনের পদ্ধতি, স্বাস্থ্য, কর্মাভ্যাস এবং
ব্যক্তিগত তথা সামাজিক অভিযোজনশীলতা,
সাধারণভাবে মূল্যায়নকে নিম্নলিখিত স্তরগুলিতে ভাগ করা যায়। যথা—
(1) তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন
(2) একক মূল্যায়ন
(3) পার্বিক মূল্যায়ন
(4) সাময়িক মল্যায়ন
(5) এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন
কোনো শিক্ষার্থীর বার্ষিক মূল্যায়ন
বা অন্য যেকোনো মূল্যায়নের ফলপ্রকাশ পেলে পরিচিতজনেরা প্রথমেই জানতে চার যে গণিত বিষয়টিতে
তার মূল্যায়নের ফলাফল কী? উক্তি শিক্ষার্থী যদি গণিতে ভালো হয় তাহলে সবাই ধরে নেয়
যে শিক্ষার্থীটির মান বেশ ভাল। অর্থাৎ মূল্যায়নের মাপকাঠি বলা যেতে পারে গণিতকে।
গণিত বিষয়টিতে ভালো বা মন্দের উপর
নির্ভর করে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন।
গণিতে মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্যগুলি
হল—
(i) গণিত বিষয়টিতে শিক্ষার্থী সঠিকভাবে
অগ্রসর হচ্ছে কিনা তা নির্ধারণ করা।
(ii) গণিত বিষয়টিতে শিক্ষার্থীর
আগ্রহ কী রূপ তা নির্ধারণ করা।
(iii) বিষয়টির উপলব্ধিতে শিক্ষার্থীর
ত্রুটি নির্ণয় করা।
(iv) শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতিতে কোনো
ত্রুটি আছে কিনা তা নির্ধারণ করা।
(v) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভুল ও ত্রুটি দূরীকরণের
উপায় উদ্ভাবনে শিক্ষককে সাহায্য করা।
বিদ্যালয়ে সাধারণত
গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মূল্যায়নের সঠিক পদ্ধতি ও তার প্রয়োগ
প্রত্যেক শিক্ষকের অবশ্যই জানা উচিত। প্রথাগত (Formal) মূল্যায়ন বলতে গণিতের ক্ষেত্রে
পরীক্ষা ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে বোঝায়। আর অপ্রথাগত (Informal) গাণতিক মূল্যায়ন
হল শিক্ষক মহাশয় কর্তৃক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ও পরিস্থিতিগত মূল্যায়নের পদক্ষেপগুলি
যার দ্বারা শিক্ষার্থ ও শিখন পদ্ধতি উভয়েরই যথার্থতা নির্ধারিত হয়।
প্রথাগত মূল্যায়ন
পদ্ধতি যান্ত্রিকতার জন্য ত্রুটিযুক্ত। ইহা শিক্ষার্থীর মনে ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। অল্পসময়ের
মধ্যে অনেকগুলি/বিষয়ের উপর প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার জন্য তাদের স্মৃতি-শক্তির উপরে
চাপ পড়ে।
এই সমস্ত কারণ অপ্রথাগত
পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয় যদি খেলার ছলে গণিতের মূল্যায়ন করা
যায়।
এর ফলে মূল্যায়ন যে হচ্ছে তা বুঝতে না দিয়েই শিশুদেরকে মূল্যায়নের ছাঁচে ফেলতে হবে। অপ্রথাগত মূল্যায়ন পদ্ধতির এই কারণেই বৈজ্ঞানিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এককথায় অপ্রথাগত পদ্ধতিকে বলা যায় শিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত এক ভীতিহীন মূল্যায়ন ব্যবস্থাপনা ও মজাদার পদ্ধতি।
তাই সব মিলিয়ে বলা
যেতে পারে মূল্যায়ন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়ের কাছেই
সমান গুরত্বপূর্ণ। শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের নিবিড়
সম্পর্ক রয়েছে। উদ্দেশ্যকে যদি বলা হয় ‘লক্ষ্য’, শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতাকে বলা হবে
‘উপায়’ এবং মূল্যায়নকে বলা হবে 'যাচাই”।
তাই NCERT এর মতে—
"Evaluation in any systematic, continuous
process of determining." আবার—Goods এর
মতে.“Evaluation
is a process of judging the value or amount by careful appraisal."
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ
গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
6295916282;
7076398606
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।